পারিবারিক জীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পারিবারিক আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আইনের একটি অন্যতম প্রধান শাখা হলো উত্তরাধিকার আইন, যা কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে কীভাবে বন্টিত হবে তা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য নিজ নিজ ধর্মীয় আইন অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়। তবে জনসংখ্যার বেশিরভাগ অংশ মুসলিম হওয়ায় মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বা ফরায়েজ আইনই সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। সম্পত্তির সঠিক বন্টন নিয়ে জ্ঞানের অভাবে অনেক পরিবারে বিবাদ, মামলা-মোকদ্দমা এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই ধরনের জটিলতা এড়াতে আইন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। উত্তরাধিকার বা সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে আইনি পরামর্শের জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত। এই বিষয়ে আইনগত পরামর্শের জন্য এডভোকেট এইচ এম হেলাল (মক্কা টাওয়ার, ৩য় তলায়, ডিসি অফিসের পশ্চিমে, জি.টি. রোড দক্ষিণ, চেয়ারম্যানঘাট, চাঁদপুর) এর সাথে যোগাযোগ করুন। যোগাযোগ: 01712771190।
উত্তরাধিকার আইন কী?
উত্তরাধিকার আইন হলো সেই বিধিবিধান যা নির্ধারণ করে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার রেখে যাওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কাদের মধ্যে এবং কী অনুপাতে ভাগ হবে। বাংলাদেশে মূলত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়ই নির্ধারণ করে দেয় কোন আইনের মাধ্যমে তার সম্পত্তি বন্টিত হবে।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফরায়েজ): বাংলাদেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের ওপর ভিত্তি করে মুসলিম পারিবারিক আইন বা ফরায়েজ গড়ে উঠেছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনো মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে সাথেই তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে ওয়ারিশদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সম্পত্তি বন্টনের আগে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
১. মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের খরচ: রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে সর্বপ্রথম তার দাফন- কাফনের যাবতীয় খরচ মেটাতে হবে।
২. ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ বা দেনা থাকলে, তা তার সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করতে হবে।
৩. উইল বা অসিয়ত কার্যকর: যদি তিনি কোনো বৈধ উইল বা অসিয়ত করে যান, তবে ঋণ পরিশোধের পর বাকি সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সেই উইল অনুযায়ী প্রদান করা যাবে।
৪. ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন: উপরের সব ধাপ সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ফরায়েজ আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।
মুসলিম আইনে কারা এবং কীভাবে সম্পত্তি পান?
মুসলিম আইনে ওয়ারিশদের প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- কুরআনিক অংশীদার (Zav-il-Furuz): এদের অংশ পবিত্র কুরআনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এই শ্রেণিতে মোট ১২ জন ওয়ারিশ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। যেমন: স্বামী/স্ত্রী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, দাদা, দাদী প্রমুখ।
- অবশিষ্টভোগী (Asaba): অংশীদারদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার পর যারা অবশিষ্ট সম্পত্তি লাভ করেন, তাদের অবশিষ্টভোগী বলা হয়। যেমন: পুত্র, কন্যার সাথে পুত্র, ভাই, বোন ইত্যাদি।
- দূরবর্তী আত্মীয় (Zav-il-Arham): উপরের দুই শ্রেণির কেউ জীবিত না থাকলে দূরবর্তী আত্মীয়রা সম্পত্তি পেয়ে থাকেন।
কিছু সাধারণ উদাহরণ:
- মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পান। সন্তান না থাকলে চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পান।
- মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে স্বামী মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পান। সন্তান না থাকলে দুই ভাগের এক ভাগ (১/২) পান।
- পুত্র ও কন্যা একসঙ্গে থাকলে, পুত্র কন্যার দ্বিগুণ সম্পত্তি লাভ করে। অর্থাৎ, ১ জন পুত্র ২ জন কন্যার সমান অংশ পায়।
উত্তরাধিকার সনদ কেন জরুরি?
উত্তরাধিকার সনদ বা ওয়ারিশান সনদ হলো একটি আইনি দলিল, যা প্রমাণ করে মৃত ব্যক্তির কারা বৈধ ওয়ারিশ এবং সম্পত্তিতে কার কতটুকু অংশ রয়েছে। জমিজমার নামজারি (Mutation), ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত টাকা উত্তোলন, শেয়ার হস্তান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই সনদটি অপরিহার্য। সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে এই সনদ সংগ্রহ করতে হয়।
শেষ কথা
সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ এড়াতে এবং প্রত্যেক ওয়ারিশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। অজ্ঞতার কারণে প্রায়ই নারীরা তাদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হন এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। যেহেতু উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বন্টনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আইনগতভাবে জটিল, তাই যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক সময়ে সঠিক আইনি পরামর্শ আপনার পরিবারকে ভবিষ্যৎ বিবাদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
পারিবারিক সম্পত্তি, উত্তরাধিকার বা ভাড়াটিয়া ও মালিকের অধিকার সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা ও আইনি পরামর্শের জন্য এডভোকেট এইচ এম হেলাল তার চেম্বারে (মক্কা টাওয়ার, ৩য় তলায়, ডিসি অফিসের পশ্চিমে, জি.টি. রোড দক্ষিণ, চেয়ারম্যানঘাট, চাঁদপুর) ভাড়াটিয়া ও মালিক উভয়কেই নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যোগাযোগ: 01712771190।
Nitiya , August 29, 2017
Borem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text.